
শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৬
প্রথম পাতা » চরফ্যাশন | শিরোনাম | সর্বশেষ » মেঘনার ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে ইলিশ রপ্তানির প্রানকেন্দ্র ঢালচর, নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার
মেঘনার ভাঙ্গনে বিলিন হচ্ছে ইলিশ রপ্তানির প্রানকেন্দ্র ঢালচর, নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার
লালমোহন বিডিনিউজ ,কামরুজ্জমান শাহীন,চরফ্যাসন : ভোলার চরফ্যাশনে উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়ন এখন মেঘনার ভয়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নিস্বঃ হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবার। দেখার যেন কেউ নেই। ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার বঙ্গোপসাগরের মোহনায় একমাত্র ইলিশ রপ্তানির প্রাণ কেন্দ্র হল এই ঢালচর। কিন্তু ভয়াল মেঘনার গ্রাসে এই ঢালচর ইউনিয়ন এখন চরফ্যাশনের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। নদীর ভাঙ্গনের ফলে বহু লোক তাদের বসত ভিটা, বাড়ী ও জমি হারিয়ে নিস্বঃ হয়ে পড়ছে। এই চরের মানুষ গুলো সব সময় নদী ও সাগরের মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল।
তাই প্রতিনিয়ত বন্যা, জলোচ্ছাস, সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে এই চরে কোন রকম বেঁচে আছে এখানকার বাসিন্দারা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ জনপদের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের জন্য ঢালচর বাজার সংলগ্ন একটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে । নদী ভাঙ্গনের ফলে এই আশ্রয়কেন্দ্রটিরই আশ্রয়ের প্রায়োজন হয়ে পড়েছে।
এর একটু পাশেই রয়েছে অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। যা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার প্রহর গুনছে। ঢালচর এলাকার কৃষক ইউছুব জানান, আমরা প্রতিনিয়ত বন্যা,জলোচ্ছাস,সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে এই চরে কোন রকম বেঁচে আছি। আজ এই চর নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে তাই আমরা সব সময় আতংকিত হয়ে পরেছি। কোথায গেলে পাবো একটু মাথা লুকানোর ঠাঁই তা এখন ভেবে পাচ্ছি না। এই ইউনিয়নে একটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়
রয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম জানান, নদী ভাঙ্গনের কারণে বহু লোক তাদের ভিটা-বাড়ী ও জমি হারিয়ে নিস্বঃ হয়ে পড়েছে। ফলে তারা বেঁচে থাকার তাগিদে আশ্রয় খুঁজছে। ঢালচর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী শাহেআলম ফরাজী জানান, প্রতিনিয়ত ভয়াল মেঘনার গ্রাসে এই ঢালচর ইউনিয়ন এখন হারিয়ে যাচ্ছে। বর্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমেও নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় সব সময় আতংকে থাকি। এই নদী ভাঙ্গনের কারণে বহু লোক আজ সহায়সম্বল হারিয়েছে। নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কয়েকবার মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে ঢালচরবাসী। জনপ্রতিনিধি আর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসই জুটেছে তাদের ভাগ্যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই শুধু আশ্বাসই নয় রাক্ষসী মেঘনার ভয়াল ভাঙ্গনের কবল থেকে, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নকে রক্ষা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান ঢালচরবাসী।
ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ সালাম হাওলাদার জানান, প্রতিনিয়ত মেঘনার ভাঙ্গনে ঢালচর ইউনিয়ানটি ছোট হয়ে আসছে। ঢালচর ইউনিয়নের একমাত্র বাজার মেঘনার গর্ভে বিলীতের পথে। তাই ভোলা জেলার ইলিশ রপ্তানীর প্রানকেন্দ্র ঢালচরকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকারে প্রতি দাবী জানান তিনি।