
বুধবার, ১৬ মার্চ ২০১৬
প্রথম পাতা » লালমোহন | শিরোনাম | সর্বশেষ » লালমোহনে সংবাদিকদের ওপর দলীয় ক্যাডারদের বর্বর হামলা প্রতিবাদ ও গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
লালমোহনে সংবাদিকদের ওপর দলীয় ক্যাডারদের বর্বর হামলা প্রতিবাদ ও গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
লালমোহন বিডিনিউজ ,ভোলা প্রতিনিধি :ভোলার লালমোহন উপজেলা সদরে অস্ত্রধারী সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদেও তান্তব চলাকালে যুগান্তর , আরটিভি প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকদেও ওপর বর্ববর হামলার প্রতিবাদে গতকাল ভোলা প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন প্রেসক্লাব, রিপোর্টাস ইউনিটি, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সাংবাদিকরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দিয়ে চিহ্নিতও অভিযুক্ত পৌর যুবলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের ক্যাডারদের গ্রেফতার দাবির পাশপাশি লালমোহন থানার ওসির প্রত্যাহার দাবি করা হয়েছে। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয় , গত কয়েকদিন ধরে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়ন, লালমোহন ইউনিয়ন ও ধলিগৌরনগর এলাকায় পৌরযুবলীগ, পৌরছাত্রলীগে ক্যাডার বাহিনী ( বিএনপি আমলের মৌমাছি বাহিনী হালে ছাত্র লীগ যুব লীগ) অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীদেও নির্বাচনী অফিস ভাংচুর, হুমকী ধামকী দিয়ে বেড়াচ্ছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার লালমোহন ইউনিয়ন নির্বাচনের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল ইসলামের ৩টি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ১৫জনকে পিটিয়ে আহত করার পর রাতে ৪০ বছর ( আমৃত্যু) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম মুখলেসুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুলের উপজেলা সদরের বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান , উত্তর ব্যাংক ভবনের নিবতলায় হামলা কওে ও তালা ঝুলিয়ে দেয়। ওই সময় যুগান্তর প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, আরটিভির ক্যামেরাপার্সন মোঃ ইউছুফ, স্থানীয় সাংবাদিক মকসুদুর রহমানসহ কয়েক সাংবাদিক ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারন করতে গেলে ক্যাড্রারা সাংবাদিকদেও ওপর হামলা করে। ক্যামেরা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার পাশপাশি ক্যামেরা পার্সন ইউছুফকে মাটিতে ফেলে ১৫ / ২০ জন তার বুকে পিঠি লাথি মারে। এমনকি ইউছুফকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করলে ৩ শথাধিক ক্যাডার রাবিহনী হাসপাতাল এক ঘন্টা ঘিওে রেখে ধারনকৃত ছবি ও ভিডিও’র মেমোরীকার্ড ফেরত দেয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করে। এ সময় লালমোহনের যুগান্তর প্রতিনিধি জসিম জনি ও মাকসুদুর রহমান ক্যাড্রাবাহনীর তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন , উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফখরুল আলম হাওলাদার, যুবলীগের সম্পাদক আবুল হাসান রিমন, স্বেচ্ছাসেক লীগের সম্পাদক তানজিল হাওলাদার ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এদিকে আহত সাংবাদিক ও স্থানীয়রা জানান, এমন সন্ত্রাসী ঘটনার নেতৃত্ব দেন লালমোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাজাহানের পুত্র ছাত্র লীগ নেতা সোহেল, পৌর যুবলীগের সভাপতি ফরাদ হোসেন মেহেরের মৌমাছি বাহিনীর সদস্য পৌরছাত্র লীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন বেলাল, পৌর যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ডেও আলমগীর কষাই’র পুত্র কামাল ( হলুদ গেঞ্জি পড়া ছিল), পৌর ছাত্র লীগ সম্পাদক জোবায়ের , হেমায়েত মাওলারার পুত্র ফরিদ, ৮ নংওয়ার্ড ছাত্র লীগ নেতা আকবরসহ শথাধিক বাহিনী। এদিকে থানা থেকে মাত্র ২শ গজের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও লালমোহন থানার ওসি আখতারুজ্জামান জানান, এমন কোন ঘটনা ঘটে নি। তিনি কিছু শোনেন নি। অথচ ওসি নিজি যখন হাসপাতালে যান তখনও বাইওে কয়েকশ ক্যাডারদেও অবসস্তান দেখতে পান। গতকাল ওসির এমন বক্তব্য শুনে ক্ষেভে ফেটে পড়েন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ কওে বলেন , ওসির সামনেই ঢাকা , খুলনা অঞ্চলের অস্ত্র ধারী ক্যাডাররা লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শহর এলাকায় ঘুরে মহড়া দিয়ে বেড়ালেও ওসি বলেন দেখেন নি, শোনেন নি। এমন ওসি দায়িত্ব পালন করলে ২২ ফেরুয়ারির ইউপি নির্বাচনে ওই এলাকায় রক্ষক্ষয়ি সংঘর্ষ ঘটনার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে স্মারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ সেলিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামান জানান, দোষীদেও গ্রেফতারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে সাংবাদিকদেও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রেসক্লাব সভাপতি আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডেপুটি কমান্ডার বাসস প্রতিনিধি মাহাবুবুল আলম নিরব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রেসক্লাবসহসভাপতি ওমর ফারুক, মোকাম্মেল হক মিলন ( কালবেলা) ,যুগান্তর প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, নেয়ামত উল্লোহ ( প্রথম আলো) হাসিম রহমান(মাছরাঙা টিভি ও জনকন্ঠ), শিমুল চৌধুরী ( কালেরকন্ঠ), বোরহানউদ্দিন প্রেসক্লাব সভাপতি আকরাম হোসেন, দৌলতখান প্রেসক্লাব সভাপতি শ,ম ফারুক, লালমোহন প্রেসক্লাবের সদস্য আনোয়ার রাব্বি, ফয়েজউল্লাহ ( যায়যায়দিন) , হোসেন সাদি ( বৈশাখী টিভি), কামরুল ইসলাম ( একাত্তুরটিভি ) মোঃ সোলায়মান প্রমুখ । এ সময় দোষীদেও ২৪ন ঘন্টার মধ্যে দেয়ার আল্টিমেটার দেন সাংবাদিকরা।